শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় পড়াশোনা ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি অর্থ ব্যবস্থাপনা শেখানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি প্রায়ই অবহেলিত থেকে যায়। অথচ শৈশবেই সঞ্চয়ের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয় বিষয় ও শখের তফাত বুঝতে শিখলে ভবিষ্যতে সঠিক আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, অর্থ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা দেওয়ার জন্য শিশুর বড় হওয়ার অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। বরং বয়স ও বোঝার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে পরিকল্পনা করা, ধৈর্য ধরা এবং নিজের পছন্দের দায়িত্ব নেওয়ার দক্ষতা ছোটবেলা থেকেই গড়ে তোলা সম্ভব।

মনোবিজ্ঞানী ও মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক লেখক সুরাইয়া ইসলাম মুন্নি জানান, শিশুরা মূলত পরিবারের বড়দের দেখেই টাকা-পয়সার ব্যবহার সম্পর্কে শেখে। বড়দের কেনাকাটা ও খরচের ধরন শিশুর আচরণকে প্রভাবিত করে বলে তাদের সঙ্গে বয়সোপযোগী আলোচনা করা জরুরি। ডিজিটাল লেনদেনের চেয়ে নগদ টাকা বা কয়েন দিয়ে শেখানো ছোটদের জন্য সহজতর। এ ছাড়া শিশুকে প্রয়োজন ও শখের পার্থক্য বোঝানো হলে আত্মনিয়ন্ত্রণ বাড়ে। টাকা জমিয়ে কিছু কেনার মাধ্যমে শিশুর মধ্যে ধৈর্য ও আবেগ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস তৈরি হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের প্রবণতা কমে। তবে পারিবারিক আর্থিক সিদ্ধান্ত সহজভাবে জানালেও শিশুর ওপর বড়দের আর্থিক দুশ্চিন্তার বোঝা চাপানো যাবে না।

বয়সের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে অর্থ সম্পর্কে শিশুর ধারণাও পরিবর্তিত হয়। সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর বয়সে শিশুরা কয়েন বা টাকাকে সাধারণ কাগজ বা খেলনা থেকে আলাদা হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলেও এর মূল্য বোঝে না। এরপর ৪ থেকে ৫ বছর বয়সে তারা টাকা চিনতে শেখে এবং ৫ টাকার মতো নির্দিষ্ট নোট শনাক্ত করতে পারে। ৫ থেকে ৬ বছর বয়সে কেনাকাটার মাধ্যমে লেনদেনের সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সে শিশুরা সঞ্চয় শেখে এবং যোগ-বিয়োগ করে কেনাকাটায় কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে তা বুঝতে পারে। অন্যদিকে, কৈশোরে পদার্পণ করলে তারা পারিবারিক বাজেট পরিকল্পনা, খরচের তালিকা তৈরি, মোট ব্যয়ের হিসাব এবং ডিজিটাল লেনদেন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়।

টাকার সঠিক ব্যবহার শেখাতে কিছু ব্যবহারিক কৌশল গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। শুরুতে নোট বা কয়েনের ছবি প্রিন্ট ও লেমিনেটিং করে শিক্ষামূলক সামগ্রী হিসেবে দেখিয়ে টাকা চেনানো যেতে পারে। লেনদেনের প্রাথমিক পাঠ হিসেবে ৫ টাকা বা ১০ টাকার মতো নির্দিষ্ট অঙ্কের জিনিস শিশুকে দিয়ে কেনানো যায়। বয়স ৭ বছর পার হওয়ার পর খেলার ছলে দোকানদার ও ক্রেতা সেজে লেনদেনের যোগ-বিয়োগ শেখানো সম্ভব। পাশাপাশি বাজারে যাওয়ার আগে কেনাকাটার তালিকা তৈরিতে শিশুর সাহায্য নেওয়া, বাসায় ফিরে ব্যয়ের নির্দিষ্ট খাতা তৈরি করা এবং বড় কোনো জিনিস কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে শিশু অর্থ ও সম্পদের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।