চলতি অক্টোবর মাসের পর আগামী নভেম্বরেও দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতির কোনো আশা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বরং রাজধানী ঢাকার বাইরেও এডিস মশাবাহিত এ রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাস ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২৯৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৪৫১ জনে। সেপ্টেম্বরজুড়ে তীব্র প্রকোপের পর অক্টোবরেও সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি মাসের কেবল প্রথম আট দিনেই আক্রান্ত হয়েছেন সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ এবং মারা গেছেন অর্ধশত জন। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা লাখের কাছাকাছি এবং মৃত্যুর সংখ্যাও তিনশর কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সাধারণত বিগত বছরগুলোতে নভেম্বরে সংক্রমণ কমতে দেখা গেলেও এবার বিদ্যমান আর্দ্রতা, মশার ঘনত্ব এবং রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। এ প্রসঙ্গে কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, “অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও অনেক জেলায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যান্য বছর নভেম্বরে ডেঙ্গু রোগী কমে যায়। তবে চলতি বছর সেই সম্ভাবনা খুবই কম।” এডিস মশার প্রজননস্থল সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সিটি করপোরেশনগুলো প্রচুর কাজ করছে। কিন্তু ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। এডিস মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা আমরা ঠিকভাবে করতে পারছি না। তাই নির্দিষ্ট স্থানকে লক্ষ্য করে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনা মেনে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোথায় ও কখন ফগিং করতে হবে, সে বিষয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছে, আমরা সেভাবেই কাজ করছি। সিটি করপোরেশনের পক্ষে এই নগরের ১৮ থেকে ২৫-২৬ লাখ হোল্ডিংয়ের বাসাবাড়িতে গিয়ে বেসমেন্টে মশার প্রজননস্থল খুঁজে দেখা বাস্তবিক অর্থেই কঠিন কাজ।” এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সর্বস্তরের জনগণকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের কাজে সম্পৃক্ত করা গেলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।